ফিরে দেখা বসন্তপঞ্চমী
ফিরেদেখা বসন্তপঞ্চমী
“ওম সরস্বতী মহাভাগে, বিদ্যে কমলোচনে…”। এই রে আসল প্রার্থনাটাই ফাঁকি পরে গেছে যে। ব্লগ লিখতে বসে টনকটা নড়লো, সত্যিই তো স্মৃতিচারনের মুল রসদ 'স্মৃতিশক্তিটাই ' আজকে বড় দুর্বল। সরস্বতী পুজো নিয়ে
মনে রাখার ঘটনা তো অগুন্তি, কিন্তু হাতে গোনা 'Kilobyte memory' সেই অগুন্তি স্মৃতির ভারে ক্লান্ত। তাই,
মা সত্যি বলছি এবারের মতন উতরে দাও,
শুধরে নেবো তোমার প্রার্থনা, জুড়ে দেবো নতুন সংযোযন। সেই আশায় শুরু করলাম আমার শৈশব থেকে কৈশোরের, থুড়ি কৈশোর থেকে শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন।বলাই বহুল্য ব্রাহ্মী শাক
বা ব্রেনলিয়া ছাড়াই স্মৃতির রথে চেপে যাত্রা শুরু
করলাম।
“বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা। কারা যে ডাকিল পিছে , বসন্ত এসে গেছে।”
সেই ছোটোবেলার সরস্বতী পুজো যে বাঙালি প্রেমের ক্যালেন্ডার ডেট হয়ে উঠবে ভাবলেই মনে হিমেল হাওয়ার
দোলা লাগে।সেই হিমেল হাওয়া যেন বড়দের মতন ঠান্ডা চোখের চাহনিতে জানান দেয়, ‘হলুদ শাড়ি আর খোঁপায় ম্যাচিং ফুল লাগিয়ে বেশ তো ডেটিং এ যাচ্ছো, শুধু খেয়াল রেখো হাত ঘড়ির।যতই বাহানা দাওবাড়িতে, সে তো ধোপে টিকবে না যখন কেউ দেখবে ওই দূরে গলির মোড়ে কোনো এক ছোকরা পাঞ্জাবি পরে bike নিয়ে wait করছে।‘এই গেলো কলেজের প্রেমময় সরস্বতীবন্দনা।
কয়েক
পংতি কথোপকথন থাকলো সেই স্কুল জীবনের সোনালী ডাইরি থেকে –
“বলছি
কোন বইটা মায়ের চরণে দি বলতো? আগের বারে শুধু অঙ্ক আর ইংরেজিটা দিয়ে
ফেঁসে গেছলাম।
জানিস তো ভৌত বিজ্ঞানে কেমন কাঁচা আমি, তাও তোর কথা শুনেই ও দুটোই দিলাম, আর ওমনি মা খেল দেখিয়ে দিলো - শুধু পাস মার্ক্স্।
বন্ধু বলে শোন, এবারে একটা জম্পেশ ফন্দি এঁটেছি, একদম এক ঢিলে দুই পাখি।
আগেরবার মা সরস্বতীকে সব সাবজেক্টের বই যেই দিতে গেছি, পুরুত বলে এত্ত ধরানোর জায়গা নেই বাপু, ম্যাক্সিমাম তিনটে নিতে পারি।
ওমনি উপরের তিনটে চলে গেলো সটান দেবীর বেদিতে।
আর এদিকে আমার হাতের জীবন বিজ্ঞানের বইটা জুলজুল করে তাকিয়ে যেন বলছিলো তৈরি থেকো, হাজির হচ্ছি কাল বিজ্ঞানসম্মত নামের ঝুলি নিয়ে।
উফফ অসহ্য! এই পুরুত ঠাকুরের জ্বালায়
এটা
না
পড়ার
বাহানাও দেওয়া যাবেনা। তাই
বলছি শোন এবারে দেবো টেস্ট পেপার - একটা বই, কিন্তু সব
সাবজেক্টের
ঠেকা নিয়ে বসে আছে।
বল কেমন দিলাম আইডিয়াটা?” বলাই বাহুল্য স্কুলের আরো কত্তো ঘটনা যে এইরকম অমূল্য সম্পদ হয়ে আছে মনের মনিকোঠায়, যেমন টো টো করে পাড়ায় ও স্কুলে দল বেঁধে ঠাকুর দেখতে যাওয়া, ম্যাচিং গয়না আর শাড়ি নিয়ে সাঙ্ঘাতিক গুরুতর আলোচনা, পড়াশোনা শিকেয় তুলে ঠাকুর আনা ,আলপনা দেওয়া, ঠাকুরের জোগাড় করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রাইমারী
স্কুলের
স্মৃতি একদম কিলোবাইটে উত্তর
দিচ্ছে।
প্রথমেই মনে পড়ে , প্রাসাদের থালায় সবার চোখ কিন্তু নারকেল কুলের দিকে,বাকি ফল তখন নেহাতই মূল্যহীন।
প্রাসাদ
বিতরণের
সময় পাতার ঠোঙায় কারোর কপালে জুটছে আবার কারোর নয়।
কিন্তু
কুল প্রেমিকদের কাছে সেটা কোনো বাধাই নয়। বিভিন্ন রকমের ডিল চলছে , ‘একটা নারকেল কুল = দুটো মন্ডা’ বা ‘একটা কুল = দুকুচি আমসত্ত্ব’। আবার কেউ প্রাসাদের থালা রেখে নিজের জায়গা চেঞ্জ করছে আরেকবার প্রাসাদ পাওয়ার আশায়! স্মৃতির ঝুলিতে আরো কিছু উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে যেমন, "আগের দিন রাত থেকে জেগে গাঁদা ফুল পাহারা দেওয়া, আম গাছের প্রথম মঞ্জরী হাতে পাওয়া, আর কাগজ কাটা ছেড়ার সেই কড়া নিষেধাজ্ঞা"।
এখন
তো শুধু স্থান পরিবর্তনের পালা, তবে সেই ট্রেডিশন এখনো চলছে হয়তো বা নতুন রূপে বা নতুন আঙ্গিকে।
নতুন রূপের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত মা সরাসরি পুজো নিচ্ছেন ‘FacebookLive’ এ পুরুতের তোয়াক্কা না করেই।
ঝটপট log on করে অঞ্জলি টা সেরে ফেলো www.facebook.com/SaraswatiPujo_LivePuspanjali
এ, আর মনোবাসনাটা text করে দিও, কেমন?
অবুঝ মনের দুয়ার দিয়ে
জ্ঞানের যাতায়াত সীমিত
টুকিটাকি লেখা ও
আঁকার ঢাক পিটিয়েই আমি গর্বিত
খেয়ে পরে বেঁচে আছি তথ্যপ্রযুক্তির দয়াতে
আর মায়ের আশির্বাদে উতরে গেছি লেখা আর পড়াতে!
Comments
Post a Comment